ভূমিকা: কবিতাটি মানবতার সংজ্ঞা, স্বার্থপরতা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরার একটি গভীর প্রচেষ্টা। "মানুষ বলি কারে?" শিরোনামের এই কবিতায় কবি এমন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যাদের জীবন আবর্তিত হয় কেবল নিজের স্বার্থের চারপাশে। তারা অন্যের কষ্ট, যন্ত্রণা বা মানবিক সম্পর্কের গভীরতাকে অনুভব করতে ব্যর্থ। কবিতার মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানবতার প্রকৃত অর্থ বোঝা এবং সেটি অনুসারে চলা একজন প্রকৃত মানুষের পরিচয়।
প্রকৃত মানুষ কেবল দেহ ধারণে নয়, বরং তার হৃদয়ে থাকতে হবে দয়া, সহানুভূতি এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। কবিতাটি এমন এক সমাজের চিত্র তুলে ধরে যেখানে স্বার্থপরতার কারণে মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলীর অভাব পরিলক্ষিত হয়। কবি প্রশ্ন করেন, যারা কেবল নিজেকে ভালোবাসে এবং অন্যের কষ্টের প্রতি উদাসীন থাকে, তাদের কি প্রকৃত অর্থে "মানুষ" বলা যায়?
এই কবিতার মূল বার্তা হলো, মানবিক গুণাবলী ছাড়া মানুষ নয়, বরং সে এক অবমাননাকর অস্তিত্ব। সত্যিকার অর্থে মানুষ হতে হলে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, দয়া এবং সহানুভূতি থাকতে হবে।
মানুষ বলি কারে?
বিপ্লব কবিরাজ
যে
সর্বদা খুঁজে বেড়ায় স্বার্থ,
কি করিয়া বুঝিবে মানবতার অর্থ?
কী করিয়া বলিব তাহারে মানুষ,
সে জ্ঞানে আমি হারাই হুঁশ।
বুকের
গভীরে নাই কোনো দয়া,
আবেগের আড়ালে নিষ্ঠুর ছায়া।
যে ভালোবাসে কেবলই নিজে,
তাহার হৃদয় বুঝি পাথরেই বাধা।
আছে
তার চোখে কেবল স্বপ্ন আপন,
অন্যের বেদনায় কভু নাই কাঁপন।
কীসের স্নেহ, কীসের মায়া?
তাহার হৃদয়ে শুধু মোহের ছায়া।
তাহারে
মানুষ বলিবে কি করে?
স্বার্থপরতার মাঝে সে শুধুই পড়ে।
মনুষ্যত্ব বিহীন সে ছায়া রূপী প্রাণ,
অন্ধকারে সে চলে, আলোর শূন্য স্থান।
নিঃস্বার্থ
হৃদয় বুঝিবে কোথায়,
যে চায় কেবল নিজেরই মায়া।
পরকে দেখে খুঁজে কেবল দোষ,
সে জ্ঞানে আমি হারাইয়াছি হুঁশ।
দেখে
না সে কারো কান্নার বন্যা,
শুনে না বেদনার নিরব আকুলতা।
তাহার পায়ের তলায় ভাঙে কত আশা,
অন্যের যন্ত্রণায় সে তো নির্লিপ্ত বসা।
নিষ্ঠুরতায়
যে নির্মম খেলা,
সহানুভূতির তবু নাই কোনো বেলা।
তাকেই কি বলিব মানুষ, নাকি জানোয়ার?
হৃদয়ে যেথা নেই প্রেমের আদার।
কী
করিয়া তাহাকে মানুষ বলি,
যে চিনে না ভালোবাসা, দেয় না খুশি।
নিঃস্বার্থতার পথে সে হাঁটে না একদিন,
তাহার হৃদয় শুধু স্বার্থের গহীন।
তবে
কি মানুষ? নাকি কেবল ছায়া,
আবেগহীন হৃদয়ে অমানুষের কায়া?
"মানুষ বলি কারে?" প্রশ্নই রবে,
কোথায় মানবতা? সে শুধু মরীচিকা হবে।
মানুষ
সে, যে দেয় পরকে সুখ,
আঘাতের মাঝে রাখে নত মুখ।
স্বার্থের ঊর্ধ্বে করে সেবা দান,
সেই তো মানব, সেই মানুষের মান।
যে
হৃদয়ে থাকে দয়া আর মায়া,
আবেগের বাঁধনে গড়ে ভালোবাসার ছায়া।
তাহারেই বলিব আমি সবার প্রাণ,
নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মেলে অমর সম্মান।
মানুষ
সে, যে বোঝে পরের কান্না,
আত্মার মাঝে দেয় ভালোবাসার ত্বরণা।
তাহাকে বলি আমি মানুষের দান,
নইলে মানুষ নয়, শুধু অবমান।
সারমর্ম: প্রকৃত মানুষ তাকে বলা যায়, যার হৃদয়ে রয়েছে দয়া, মায়া, এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। যারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের পেছনে ছুটে, অন্যের কষ্ট বা যন্ত্রণা অনুভব করে না, তাদেরকে মানুষ বলা যায় না। তারা মানবিক গুণাবলীর অভাবের কারণে কেবল দেহধারী এক অবমাননাকর সত্তা। কবিতাটি মানুষের স্বার্থপরতা এবং নিষ্ঠুরতাকে নিন্দা করে, এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবতার সেবায় নিবেদিত জীবনকেই প্রকৃত মানুষের পরিচয় হিসেবে তুলে ধরে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন