ভূমিকা
প্রেম জীবনের এক অদ্ভুত অনুভূতি, যেখানে মনের গভীরতম আবেগগুলো শব্দ হয়ে ওঠে। ভালোবাসা কখনো আমাদের হাসায়, কখনো অশ্রু ঝরায়। কিন্তু এমনও সময় আসে, যখন আমাদের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি দূরে সরে যায়, আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকি শূন্যতার বুকে।
এই কবিতা সেই মুহূর্তের কথা বলে, যখন কেউ ভালোবেসেও দূরে চলে যায়, সমাজের নিয়ম আর পারিবারিক সিদ্ধান্তের কারণে। প্রিয় মানুষটির বিয়ের দিনটা দেখেও চুপ থাকার কষ্ট, মনের ভেতর জমানো না বলা কথাগুলো আর হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির ভার—সব মিলিয়ে এই কবিতার প্রতিটি ছত্রে প্রকাশ পেয়েছে এক হৃদয়বিদারক যন্ত্রণা।
"আবার যদি দেখা হতো" হলো সেই নিঃসীম ব্যথার কথা, যা হৃদয়কে টুকরো টুকরো করে দেয়, তবু ভালোবাসার প্রার্থনায় পূর্ণ রাখে। এটা কেবল একটি কবিতা নয়; এটা এক ভাঙা হৃদয়ের আর্তনাদ, যা কখনো থামে না।
আবার যদি দেখা হতো
বিপ্লব কবিরাজ
আবার যদি দেখা হতো, সেদিনের মতো পথে,
হৃদয় ভরা কষ্ট নিয়ে দাঁড়াতাম তোর সাথে।
চোখের কোনে জল জমে, বলতে চায় কত কথা,
তুই কি জানিস, তোর জন্যই এখনো এই ব্যথা?
আবার যদি দেখা হতো, সেই দুপুরের আলোয়,
তুইও কি বলবি, "তোর সাথে কাটিয়েছি ভালোয়"?
তোর হাসিটুকু সাথি ছিল, জীবনের ওই দিন,
আজ তো সবই স্মৃতি হল, বাকি শুধু চির ঋণ।
তোর হাত ধরা স্বপ্নগুলো হারিয়ে গেছে কবে,
তবু কেন তুই ফিরিস নাকো আমার চোখের ভবে?
তুই কি জানিস, বিয়ের রাতে আড়াল থেকে চেয়ে,
ভাঙা মনের গান গেয়েছি সেদিন তোর কণ্ঠে মিশিয়ে?
তোর শাড়ি ঢেকে কাঁচের চুড়ি বাজছিল কেমন করে,
আমার বুকের ঘরে সেদিন ঝড় উঠেছিল জোরে।
শঙ্খের ধ্বনি ভেসে আসছিল, তবু তুই যে চুপ,
আমি জানি, তোর হাসির নিচে ছিল এক আড়াল রূপ।
আবার যদি দেখা হতো, হয়তো সব ভুলে যেতাম,
তবু কেন জানি, কষ্টগুলো আগলে ধরে বসে থাকতাম।
তুই সুখে থাকিস, এই প্রার্থনায় ভরা আমার দিন,
তুই ভুলে গেলেও, মুছতে পারব না মনের এই ঋণ।
তোর হাতখানি যে ধরতে চেয়েছিলাম সারাটি জনম,
তুইও কি জানিস, তোর জন্য আজও আমি বিভ্রম।
আবার যদি দেখা হতো, জীবনের কোন পথে,
তুই কি বুঝবি, মুছতে পারিনি কষ্টের স্রোতের সাথে?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন