চক্ষুদ্বয়
--- বিপ্লব কবিরাজ
“ওই সেই দুটি চক্ষু,
যাহা প্রতি আমি একাধিকবার দৃষ্টিপাত করিবার সাহস রাখি না।
সেই চক্ষুদ্বয়ে দৃষ্টি যাই পড়ে,
আমিই হারাইয়া যাই কোন্ অজানার অতল গহ্বরে।”
সেই চক্ষুদ্বয় যেন
অমাবস্যার রজনীতে দীপশিখার ন্যায় প্রজ্বলিত—
নীরব, স্থির, অথচ অপ্রতিরোধ্য এক আকর্ষণ,
যাহা মোর হৃদয়ের গভীরতম কুঠুরিতেও
কম্পন জাগাইয়া তোলে।
তাহাদের দৃষ্টির ভিতরে লুকাইয়া
থাকে
অকথিত অগণিত প্রশ্ন,
অশ্রুত সুর, অলিখিত কবিতা—
মনে হয়,
চাহিলে যেন আমি পাঠ করিতে পারি
সমস্ত অনুভবের নিঃশব্দ পঙ্ক্তিমালা।
কিন্তু পুনরায় দৃষ্টি তুলিতে
ভয় হয়—
আমি জানি,
সে চোখে দ্বিতীয়বার নিমগ্ন হইলে
আমি আর মর্ত্যের মানুষ থাকিব না,
হইয়া উঠিব স্বপ্ন-বিস্মৃত এক পথিক,
যাহার পথ, যাহার গন্তব্য,
দুই-ই হারাইয়া যায় চক্ষুদ্বয়ের মায়াবী গভীরতায়।
হে চক্ষুদ্বয়—
তোমাদের দিকে একবার দৃষ্টি দানই যথেষ্ট
আমার সমগ্র অস্তিত্ব আলোড়িত করিবার নিমিত্তে।
তোমাদের রহস্যময় নীল অন্ধকারে
আমি যেন হারাইয়া যাই
নিজ নাম, নিজ পরিচয়, নিজ পৃথিবী।
আমি স্বীকার করি—
তোমাদের দিকে পুনরায় দৃষ্টিপাত করিবার সাহস মোর নাই;
তোমাদের মায়া মানুষকে মানুষ রাখে না—
তাহাকে বানাইয়া ফেলে
স্বপ্নের অতলে ডুবন্ত এক নীরব যাত্রী।




.png)



