মানুষ নয় প্রতিচ্ছবি || বিপ্লব কবিরাজ

 


ভূমিকা

মানুষ তার ধর্ম ও কর্তব্যের মূল ভিত্তি হিসেবে মানবতাকে ধারণ করে। কিন্তু আজকের সমাজে সেই মানবতার মুখোশের আড়ালে বহু অমানবিক প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে। লোভ, হিংসা, এবং ক্ষমতার লড়াই মানুষের স্বভাবসুলভ গুণাবলিকে ঢেকে দিচ্ছে। মানুষের চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই প্রতিচ্ছবিগুলো এক ভয়াবহ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই কবিতার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই অন্ধকার দিক, যেখানে ভালোবাসা ও সম্পর্কের মতো পবিত্র অনুভূতিগুলো লোভ আর মিথ্যার বলি হয়।

"মানুষ নয় প্রতিচ্ছবি" কবিতাটি এই তিক্ত বাস্তবতারই প্রতিফলন। এখানে দেখানো হয়েছে, কীভাবে মানবতার আলোকিত পথ থেকে মানুষ সরে গিয়ে অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। তবু কবিতাটি আশা রাখে যে একদিন সত্য, বিবেক, এবং ভালোবাসার শক্তি মানুষের মাঝে পুনর্জাগরণ ঘটাবে।

এই কবিতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, মানুষ হয়েও কীভাবে আমরা কখনো মানুষ নই। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে মানবতার পথে ফিরে আসার প্রেরণা পাই।


মানুষ নয় প্রতিচ্ছবি

বিপ্লব কবিরাজ

চোখের সামনে দেখছি আজ এক ভয়ার্ত ছবি,
মানুষের মুখোশ পরে ঘুরছে প্রতিচ্ছবি।
মানবতা কোথায় গেল? হৃদয় শূন্য হয়,
মানুষ নামে যারা চলে, তারা মানুষ নয়।

ভালোবাসার নামে করছে ভোগ, করছে জীবন নষ্ট,
পবিত্র সম্পর্ক লুটে নেয় লোভের পাপী কষ্ট।
স্বার্থের তরে প্রেম বিকিয়ে দেয় মিথ্যার মায়ায়,
তারা কি মানুষ, নাকি প্রতিচ্ছবি শুধু ছায়ায়?

হাতে রক্ত, মুখে হানাহানি, শান্তি খোঁজার ভান,
অন্যায়ের স্রোতে ভেসে যায় প্রতিদিনের প্রাণ।
কোনো মুখোশ ফাটলে দেখি ভেতরে কালো ছায়া,
সত্য দিয়ে নয়, তারা মিথ্যে দিয়ে গড়া মায়া।

ছিল যে কাজ মানুষের, দুঃখ মুছে দেওয়া,
তারা এখন দুঃখ বোনে, লোভে মগ্ন চাওয়া।
বড় হতে চায় পদ দখলে, পিষে রাখে পথ,
নিজের সুখেই বাঁধা পড়ে, ভেঙে দেয় সব রথ।

হিংস্র হাসি, তীক্ষ্ণ চোখে বুনে ধ্বংসের জাল,
মানুষের মতো নয় তারা, করে মানবতাকে কাল।
বাইরে আলো দেখায় যারা, ভেতরে অন্ধকার,
তাদের মনে নেই কোনো সুর, শুধু ভয়ংকর আঁধার।

তবু কি হারিয়ে যাবে সব? আশার প্রদীপ নিভে?
না, সত্যের শক্তি একদিন প্রতিচ্ছবিকে ধ্বংস দিবে।
যে দিন জাগবে মানুষ হয়ে, বিবেক দেবে হাত,
তখনি রবে না প্রতিচ্ছবি, ফিরবে মানবতার বাত।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন